Category Archives: অপরাধ জগত

একজন পাড়া দিয়ে ধরত অন্যজন মারত, এরাও মানুষ!! (পড়ুন ও শেয়ার করুন)

তারা আামাকে ঠিক মতো খেতে দিত না। তাদের উচ্ছিষ্টগুলো আমাকে খেতে দিত। একজন পা দিয়ে আমাকে পাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, অন্যজন মারত। সারা শরীরে লাঠি দিয়ে মারত। আমার পাছায় বেশি মারত। শাহাদাতের বৌ কাঠের খুন্তিতে গরম তেল নিয়ে আমার হাঠুতে ছ্যাকা দিত। শাহাদাত বেলন দিয়ে মেরে রক্ত বের করে দিত।
এভাবেই শিশু গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপী আদালতের কাছে তুলে ধরেছে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রীর নিত্যের নির্মম-নিষ্ঠুরি বিবরণ।
বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৫-এর বিচারক তানজিনা ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্য দেয় হ্যাপী। ঢাকা মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার কাগজ উপস্থাপন করেন।
হ্যাপী বলে, শাহাদাত হোসেনের বৌ কাঠের খুন্তিতে গরম তেল নিয়ে আমার হাঠুতে ছ্যাকা দেয়। একদিন রাতে আমি বাচ্চার সুজি রান্না করছিলাম। দেরি হয়েছে বলে শাহাদাত ও তাঁর বৌ আমাকে মারতে শুরু করে। শাহাদাতও বেলন নিয়ে এসে আমাকে মারধর করে। আমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে বেলন লাটির একটি অংশ লেগে গর্ত হয়, রক্ত বের হয়। এতে তাঁরা মারা থামায়। ক্ষততে ন্যাকড়া বেঁধে আমি কাজ করি। ঐ রাতে আমি ভয়ে তাদের কথামত ঘরের সব কাজ করি।
সে আরো বলে, ‘আমি ক্রিকেটার শাহাদাতের বাসায় প্রায় এক বছর যাবৎ কাজ করি। আমাকে দুই হাজার টাকা বেতন দিত। আমি বাসার সব কাজ করতাম। আমার কাজে কোনো ভুল হলেই শাহাদাত আর তার বৌ আমাকে মারত।’
নিষ্ঠুরতার বিবরণ দিয়ে হ্যাপী বলে, ‘একজন পা দিয়ে আমাকে পাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, অন্যজন মারত। সারা শরীরেও লাঠি দিয়ে মারত। আমার পাছায় বেশি মারত। আবার মারার জায়গায় বরফ দিয়ে ধরে রাখতো সারা রাত। আমি বরফ সরালে তাঁরা আবার পিটাত। আমার বরফ ধরে রাখতে কষ্ট হতো।’
‘প্রায়ই শাহাদাত হোসেন আমার গলা টিপে ধরত। আমার শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে আমি শ্বাস নিতাম। তখন আমাকে আরো মারত। তার (শাহাদাত) বৌ মাঝে মাঝে আমার গলা টিপে ধরেছে। আমাকে ডাল ঘুটনি দিয়ে মারতে মারতে চার-পাঁচটি ডাল ঘুটনি ভেঙ্গে ফেলেছে। আমাকে ভাতের চামচ দিয়ে মারত। ভাতের চামচ অনেক মেরে ভেঙ্গেছে।’
‘রুটি বানানোর বেলন দিয়ে মারত। আমি ওটা লুকিয়ে রেখেছিলাম বলে ওরা আরো একটি বেলন কিনে আনছে। শাহাদাত হোসেনের বৌ কাঠের খুন্তিতে গরম তেল নিয়ে আমার হাঠুতে ছ্যাকা দেয়।’
‘একদিন রাতে আমি বাচ্চার সুজি রান্না করছিলাম। দেরী হয়েছে বলে শাহাদাত ও তার বৌ আমাকে মারতে শুরু করে। শাহাদাত ও বেলন নিয়ে এসে আমাকে মারধোর করে। আমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে বেলন লাটির একটি অংশ লেগে গর্ত হয়, রক্ত বের হয়। এতে তারা মারা থামায়। ক্ষততে ন্যাকড়া বেঁধে আমি কাজ করি।ঐ রাতে আমি ভয়ে তাদের কথামত ঘরের সব কাজ করি।’
‘শাহাদাত তার বৌকেও মারত। আমার চোখে মুখে ঘুষি দিত। আমার বাঁ চোখ ফুলে প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একদিন শাহাদাতের বৌ আমাকে মুখ চেপে ধরে মারত।’
‘সে একদিন আমার মুখ চেপে ধরতে গিয়ে তার নখ আমার বা গালে লেগে দাগ হয়ে যায়। পরের দিন শাহাদাৎ হোসেন আমার বা গালে চড় মারলে দাগ পড়ে যায়। তার নখ লেগেও বাম গালে দাগ হয়।
‘তারা আামাকে ঠিক মতো খেতে দিত না। তাদের উচ্ছিষ্টগুলো আমাকে খেতে দিত। আমি শেষ ঘটনার কয়েকদিন আগে আসামিদের দেশের বাড়িতে যাই। সেখানে আমি শাহাদাত হোসেনের মায়ের কাছে নালিশ করি। তিনি আমাকে মারতে নিষেধ করেন।’
‘সেই রাতে আসামিরা ঢাকায় আসার পথে গাড়িতে শাহাদাত হোসেনের বৌ আমাকে পানির বোতল দিয়ে মারে।’
‘গাড়িতে আমাকে মারার জন্য তিন চারটা লাঠি ছিল। গাড়িতে আমাকে সে চর ও ঘুষি মারে। এর পরই সুজি রান্নার ঘটনা নিয়ে শাহাদাতের বৌ আমাকে পাড়া দিয়ে ধরে। আমি চিৎকার করি সে জন্য আমার মুখে পাতা দিয়েছিল, মেরেছিল। মারের কারণে আমার বাম হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে।’
‘প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একদিন দুপুরের দিকে বাচ্চার সুজির রং হলুদের কারণ জিজ্ঞাসা করে শাহাদাতের বৌ। আমি ভয়ে মিথ্যা বলি যে সুজিতে আমি হলুদ মিশাইছি। শাহাদাৎ হোসেন তখন প্রেকটিসে ছিল। তার বৌ এটা নিয়ে আমার পেটে ঘুষি মারে। আমাকে মারার জন্য একটি লাঠি কিনে আনতে বলে।’
‘আমি ভয়ে গেট খুলে বাসা থেকে বের হয়ে ৬নং বাজারের সামনে যাই। সেখানে একজন মেয়ে আমাকে কী হয়েছে জিজ্ঞেস করে।আমি তাকে সব ঘটনা খুলে বলি। সে আমাকে সাংবাদিকের কাছে নিয়ে যায়।এর পর আমাকে ডাক্তার দেখানো হয়।এক্স-রেতে দেখা যায়, আমার বাম পা ভেঙ্গে গেছে। তারা আমাকে সবসময় তালা দিয়ে আটকে রাখত। রাতে বাথরুমে ঘুমাতে দিত।’
মহানগর হাকিমের সাক্ষ্যের পর হ্যাপীকে জেরা করেন শাহাদাতের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু। পরে বিচারক আগামী ২৪ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন ভিকটিম ও মামলার বাদীকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দিন রাখা হয়েছে।
গত বছরের গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় ক্রিকেটার শাহাদাত তাঁর বাসার গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে একটি জিডি করেন। এরপর একই দিন রাত ৮টার দিকে মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে হ্যাপীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে হ্যাপী অভিযোগ করে শাহাদাতের বাসায় তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হতো।
পরে পুলিশ হ্যাপীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে। একই সঙ্গে সাংবাদিক খোন্দকার মোজাম্মেল হক শিশু নির্যাতনের দায়ে শাহাদাতের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
গত বছরের ৫ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে শাহাদাত আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে স্ত্রী নিত্যকে গত ৪ অক্টোবর ভোরে দিবাগত গভীর রাত সাড়ে ৩টায় মালিবাগের পাবনা গলিতে তার বাবার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ২২ ফেব্র“য়ারি এ মামলায় ক্রিকেটার শাহাদাত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় বর্তমানে তারা দুজনই জামিনে রয়েছেন।

সুত্র – অনলাইন বাংলা

child-abused

দেখলে অবাক হবেন, যেখানে জোর করে মিলন বৈধ!

একবিংশ শতাব্দীতে এখনও দুনিয়াতে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যাদের কার্যকলাপ অনেকটাই পশু সমতুল্য। সাধারণ মস্তিস্কের কোন মানুষ তাদের এই ঘটনা শুনলে অবাক হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আজকের এই বিজ্ঞানের যুগেও এমন রীতিনীতি সমাজ দ্বারা স্বীকৃত।

ভারতের আসামের ১৬ বছরের সাজিয়া ফাকিরের সেলফোনে একটা রং নাম্বারে ফোন আসে। ঠিক দুই সপ্তাহ পর সাজিয়া হরিয়ানার বধু বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। একাধিকবার সাজিয়ার সাথে এটা হয়েছে।

সাজিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তারা আর খুঁজতে পারবে না। সাজিয়াকে ভুলে যাওয়ার কথা বলে। নিজেদের খুঁজে নিতে বলে পুলিশ।

সাজিয়া যুবের আর বশিরের একমাত্র আদরের বোন ছিল। যাকে দুই ভাই খুব আদরে মানুষ করেছে। এই দুই ভাই বোনকে কখনও তাদের মা বেঁচে না থাকার কষ্টটা বুঝতে দেয় নি।

সাজিয়া নিখোঁজের পর এই দুই ভাইয়ের জীবন এক প্রকার থেমে গিয়েছিল। সজিয়া হারিয়ে গেছে এক মাস হয়ে গেছে। বোনের স্মৃতি ওদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। আর অন্যদিকে ভারতের আসাম থেকে হাজার মাইল দূরে ভারতের হরিয়ানায় সাজিয়া সুলেমানের বাড়িতে এক কৃতদাসে পরিণত হয়েছিল। যেখানে প্রত্যেক রাতে মানসিকভাবে অসুস্থ আমির সিদ্দিকী তাকে নিজের শারীরিক খিদে মেটানোর জন্য ব্যবহার করত। তারপর একদিন এমন রাত আসে যেটা সাজিয়ার মনে আরও একবার ভয়াবহ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

গভীর রাতে সাজিয়ার ঘরে আসে আমিরের বড় ভাই। ঘরে ঢুকে সাজিয়ার সাথে জবরদস্তি করে। এই ঘটনা আমিরের বড় ভাইর স্ত্রীকে জানালে সে জানায় তোকে কিনে আনা হয়েছে যার যেমন খুশি তোকে ব্যবহার করবে। পঞ্চায়েতে বসলে এর পরিণাম আরো খারপ হবে। চুপচাপ সব সহ্য করতে থাকে সাজিয়া। কখনও আমির কখনও আমিরের ভাই কখনও আমিরের বাবার যৌন চাহিদা মেটাতে হয় সাজিয়াকে।

উল্লেখ্য, সাজিয়ার প্রেমিকই তাকে বিক্রি করে দেয়। সাজিয়াকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাম থেকে নিয়ে পালিয়ে যায় তার প্রেমিক। পরে দালালের কাছে বিক্রি করে টাকা নিয়ে চম্পট দেয় প্রেমিক। দেখুন সাজিয়ার সেই লোহমর্ষক ঘটনা।

ভারতের জনপ্রিয় এক বেসরকারি টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ক্রাইম পেট্রোল। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয় এই অনুষ্ঠান। পাঠকদের জন্য সেই অনুষ্ঠানটির একটি পর্ব এখানে তুলে ধরা হল।

Rape-logo-1

দেখুন রাষ্ট্রপতির মেয়েকে ফেসবুকে অশ্নীল মেসেজ

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জিকে ফেসবুকে যৌনতাপূর্ণ অশ্নীল মেসেজ পাঠিয়েছেন এক যুবক।

শর্মিষ্ঠা নিজেই এ তথ্য জানিয়ে দিল্লি পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখায় অভিযোগ করেছেন। খবর এনডিটিভির।

পুলিশ জানিয়েছে, পার্থ মণ্ডল নামের ওই যুবক শর্মিষ্ঠাকে এই নোংরা মেসেজ পাঠিয়েছেন। তার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার নৈহাটিতে।

প্রথমে শর্মিষ্ঠা বিষয়টি উপেক্ষা করলেও পরে ওই যুবকের বাড়াবাড়িতে ফেসবুকে তিনি সরব হয়েছেন।

সেখানে শর্মিষ্ঠা লেখেন, ‘শুক্রবার রাতে আমায় নোংরা যৌনতাপূর্ণ মেসেজ পাঠায় অপরিচিত ওই ব্যক্তি। প্রথমে ভেবেছিলাম ব্লক করে দেব। কিন্তু, পরে ভেবে দেখলাম আমি কিছু না বললে ও অন্য কারোর সঙ্গে একই জিনিস করবে।’

৫০ বছর বয়সী কংগ্রেস সদস্য শর্মিষ্ঠা তাকে পাঠানো অশ্লীল মেসেজ ও অভিযুক্তের প্রোফাইলের স্ক্রিন শট ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।রাষ্ট্রপতির মেয়েকে অশ্লীল মেসেজবাবা প্রণব মুখার্জির সঙ্গে শর্মিষ্ঠা

এরপরেই দিল্লি পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখায় অভিযোগ জানিয়েছেন শর্মিষ্ঠা। তবে পুলিশ এখনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

সাইবার ক্রাইমের ডিসিপি আনেশ রায় জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তারা একটি মামলা করে তা তদন্ত করছেন। একইসঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কংগ্রেসের এই নেতা ২০১৫ সালে দিল্লি অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে অংশ নেন। সে সময়ে জনগণের পরামর্শ ও অভিযোগ জানতে ফেসবুক প্রোফাইল পাবলিক করে দেন।

শর্মিষ্ঠা মুখার্জি বলেন, ‘আমি চাই, ওই লোকটি তার পরিবার ও বন্ধুদের সামনে লজ্জিত হোক। এছাড়া আমি তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে দিল্লি সাইবার সেলেও অভিযোগ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির মেয়ে হিসেবে নয়, অন্য সাধারণ ভারতীয় মেয়ের মতোই অভিযোগ করেছি।’

sharmistha_mukherjee

তাহমিদের হাতে ছিল স্মল আর্মস, হাসনাত-তাহমিদের নতুন মোড়

dddহাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কী পরিস্থিতিতে তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, কী পরিস্থিতিতে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এমন হয়েছে, এটা বিশ্লেষণ করে তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এ সবের সঙ্গে মিলিয়েই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হলে এই বিষয়ে কোনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য আমরা দিতে পারছি না। রবিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনাকালে তিনি এই তথ্য জানান।
এদিকে, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এখনও উল্লেখ করার মতো এ ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসনাত-তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার আগে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে তাদের বডিল্যাঙ্গুয়েজ মিলিয়ে দেখা হবে। এরপরই তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর এক কোরিয়ান নাগরিকের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে হাসনাত ও তাহমিদের ‘স্বাভাবিক আচরণ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফেসবুকে এ নিয়ে সমালোচনা চলতে থাকলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করলেও অবস্থান জানা যায়নি। সম্প্রতি দুটি গণমাধ্যমে হাসনাত-তাহমিদের আরও কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তাদের ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ দেখা গেছে। এমনকী তাহমিদের হাতে অস্ত্রও দেখা গেছে।

cccহাসনাত ও তাহমিদের সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মনিরুল ইসলাম বলেন, এই মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিট। হাসনাত করিম ও তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইনভেস্টিগেটিং সংস্থার কারও সঙ্গে কথা বলা ছাড়া এ ধরনের ‘কথিত অনুসন্ধানী’ রিপোর্ট প্রকাশ হলে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, এ রকম খবর প্রকাশিত হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাধীনভাবে যে তদন্ত করছে, সেই তদন্ত কাজে মানসিক চাপ অনুভব করতে পারে। এর ফলে তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি অনুরোধ করব তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এই ধরনের ‘কথিত অনুসন্ধানী’ রিপোর্ট প্রকাশ থেকে সবাই বিরত থাকুন। আমি আশা করব, যারা এসব কাজ করছেন, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

প্রকাশিত ছবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির যুগে অনেক কিছুই করা সম্ভব। আমরা বলব, এই ধরনের ছবি যদি কারও কাছে থাকে, তাহলে আমাদের সরবরাহ করুন। তবে আমরা অনেক ছবি পেয়েছি। যেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের সন্দেহজনকভাবেই ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করেছি। এরপর মামলা রিলেটেড কোনও তথ্য যদি তাদের কাছ পাওয়া যায়, যদি প্রতীয়মান হয় যে, এই মামলার সঙ্গে তারা জড়িত, তাহলে এই মামলায় গ্রেফতার করা হতে পারে। সেটাও জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর বলা যাবে।

ডিএমপির নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গুলশানের ঘটনায় হামলা মামলা এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যেসব পুলিশ সদস্য সেখানে প্রথম গিয়েছিলেন তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। অসংখ্য মানুষের ইন্টারভিউ হচ্ছে। ফাইনালি আমরা যাদের সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে হলেই এই মামলায় সাক্ষী করা হবে।

aaaঅভিযানের আগে সকালে আর্টিজানের ছাদে এক জঙ্গির সঙ্গে হাসনাত ও তাহমিদ

গুলশান হামলার পর থেকেই হাসনাত-তাহমিদের আচরণ ‘সন্দেহজনক’ হওয়ায় একাধিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। এমনকী হাসনাত-তাহমিদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হলে গত বুধবার রাতে গুলশানের আড়ং এবং বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে হাসনাত ও তাহমিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে দুজনের প্রত্যেককেই ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর থেকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাদের।

এদিকে, সচিবালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক দেখা করতে গেলে, সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে, তদন্ত করছে। এই কাজ ও তদন্ত করার সময় যখন যাকে প্রয়োজন মনে করছে, তখনই তাকে গ্রেফতার করছে।

অর্থ-অস্ত্র-প্রশিক্ষণদাতারা শনাক্ত

গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্তে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই ঘটনায় কারা জড়িত, কারা জড়িত নয়, কার কী ধরনের ভূমিকা—এই সম্পর্কিত অনেক তথ্যই আমাদের হাতে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হয়নি, গ্রেফতার অভিযানও শেষ হয়নি। অভিযান চলছে। আরও কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা গেলে আমরা পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে পারব।

মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা তদন্ত করছি মাসাধিক কাল হয়েছে। আমরা অনেক তথ্যই পেয়েছি। অর্থায়ন, অস্ত্রের সম্ভাব্য সরবরাহকারী, প্রশিক্ষণদাতাসহ অনেক তথ্যই আমাদের হাতে রয়েছে। সবগুলো বলার সময় এখনও আসেনি। আমরা আরেকটু আগালে বা আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে পারলে এ বিষয়ে জানানো যাবে।

তামিম-জিয়া সম্পর্কে তথ্য আসছে

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবির একটি ভগ্নাংশ জড়িত। যারা সরাসরি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের অনুসারী। এই সংগঠনের মাস্টারমাইন্ডদের একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহম্মেদ চৌধুরী। এছাড়া, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সেনাবাহিনী থেকে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকও জড়িত রয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। গত ২ আগস্ট এই দুজনকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, পুরস্কার ঘোষণার পর তামিম ও জিয়া সম্পর্কে অনেকেই তথ্য দিচ্ছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। তিনি বলেন, এমন কয়েকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছি, যেখানে তামিম ও জিয়া অবস্থান করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু অভিযানের আগেই তারা আস্তানা ছেড়ে গেছেন। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সুত্র – বাংলা ট্রিবিউন

bbb

‘ডিয়ার মি. টেরোরিস্ট’ (ভিডিও দেখুন)

ফ্রান্সের নিস শহরের জঙ্গি আক্রমণের ঘটনায় দেশটিতে মুসলিম-ভীতি বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিস শহরেরই এক মুসলিম ইউটিউবার প্রকাশ করলেন এক ভিডিও। সাধারণত রূপচর্চা নিয়ে পোস্ট দেন তিনি। আছে হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার। কিন্তু তার সবচেয়ে ভাইরাল ও জনপ্রিয় হওয়া ভিডিওটি সৌন্দর্যচর্চা ও ফ্যাশন বিষয়ক ছিল না। সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে তার ভিডিও বার্তা ইউটিউবে প্রায় ১০ লাখ বার দেখা হয়েছে। ফরাসি ভাষায় নির্মিত ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ডিয়ার মি. টেরোরিস্ট’। ২০ বছর বয়সী ইউটিউবার মারুয়া বেক্কোউচে জন্মেছেন আলজেরিয়ায়।

কিন্তু মাত্র তিন বছর বয়সে নিসে পরিবারসমেত পাড়ি জমান তিনি। তার ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘দ্য ডল বিউটি’। ফ্যাশন ও রূপচর্চা নিয়েই হাজারো ভক্ত জুটিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার ভাষায় ‘নিজের করা সবচেয়ে গুরুগম্ভীর’ ভিডিওটিই লুফে নেয় লাখো মানুষ। সেখানে তিনি জঙ্গিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ইসলাম এমন সন্ত্রাস সমর্থন করে না। তিনি জানান, যে ইসলামী মূল্যবোধে তিনি বড় হয়েছেন তার সঙ্গে জঙ্গিদের ধ্যানধারণার কোনো মিল নেই। ভাইরাল হওয়া এ ভিডিওতে তিনি সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসেবে দাবি করেন। আপনারা শহীদ হিসেবে মৃত্যুর দাবি করেন। আপনারা খারাপ লোকদের শিকারি ও হত্যাকারী হিসেবে নিজেদের দাবি করেন। কিন্তু আপনারা এটা ঠিকই জানেন যে, মানুষের জীবনের ওপর আপনাদের কোনো অধিকার নেই।

সব মুসলিমের পক্ষে আমি আপনাদের নিষেধ করছি, আপনাদের নিষ্ঠুর, বর্বর ও অমানবিক আচরণের সঙ্গে আমাদের সুন্দর ধর্ম ইসলামকে মেলাবেন না।’ ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে একটা কথা বলি। এই কথিত ‘শহিদ’দের সঙ্গে মুসলিমদের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা মুসলিম নয়। ইসলাম শান্তির কথা বলে, ঘৃণার কথা নয়। এটি সহিষ্ণুতার কথা বলে, ফ্যানাটিসজমের কথা নয়। ইসলাম আনন্দ ও ভাগাভাগির কথা বলে, হত্যার কথা নয়।’

সুত্র – মানবজমিন

24373_i2

ওয়াটার কিংডমের ভিতরের কাহিনী (ভিডিও সহ)

দেশের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম একটি ফ্যান্টাসি কিংডম। আর বিনোদন প্রিয়দের আরেকটু বিনোদিত করতেই সেখানে গড়ে উঠেছে ওয়াটার কিংডম। তবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেখানে চলে জলকেলির নামে বেহাল্লাপনা। আর এর জন্য খরচ করতে হয় মোটা অংকের টাকা।

সরেজমিন ওয়াটার কিংডম ঘুরে দেখা গেছে, উঠতি যুবক-যুবতিরা খোলামেলা পোশাক পড়ে আনন্দে আন্দোলিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বন্ধু-বান্ধব বা প্রেমিক-প্রেমিকারা সেখানে ভদ্রতার সীমাও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। প্রকাশ্রেই চলছে অশালীন কার্যক্রম। আর যারা পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে যাচ্ছেন তারা হচ্ছেন বিব্রত।

জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিনোদনের নামে চলে এসব অশ্লীলতা। আর একে প্রশ্রয় দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষও। তারা এর জন্য খরচা হিসেবে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

ওয়াটার কিংডমে বেরাতে আসা এক ব্যাবসায়ী জানান, এখানে প্রকাশ্যে যা চলছে তাতে পরিবার পরিজন নিয়ে আসা দায়। যুবক-যুবতীরা এখানে যা করছে তা একজন অভিভাবক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, আশুলিয়ার এই ওয়াটার কিংডমে প্রায় প্রতিদিনই চলে হট পার্টির নামে বেহায়য়াপনা। প্রশাসন জানলেও এ ব্যপারে কোন নজর দিচ্ছেনা। আর এই সব হট পার্টির পাশাপাশি চলছে মাদক পার্টিও।

উল্লেখ্য এর আগে স্থানীয়দের চাপে ওয়াটার কিংডমের ডিজে পার্টির আড়ালে মাদকের উৎসব থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পরে উপরের চাপে মুচলেকা দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।

453545

২০ জুলাই যমুনা ফিউচার পার্কে হামলার হুমকি আইএস এর

13537613_10209643642236234_1038262877158923260_nআগামী ২০ জুলাই রাজধানীর কুড়িলে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে হামলার হুমকি দিয়েছে আইএস।

কামিল আহমেদ নামে এক টুইট ব্যবহারকারী রোববার সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে ও সোমবার রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে একই বার্তা দিয়ে একই একাউন্ট থেকে দুটি টুইট করেছে। তবে এই রিপোর্ট লেখার প্রায় ৩ ঘণ্টা আগে টুইটার একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

টুইট বার্তার মন্তব্যের ঘরে ‘কেন বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে’ এমন প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, টুইটকারী জানান, অমুসলিমদের হাত থেকে ইসলামকে রক্ষার স্বার্থেই এসব পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি সঠিক রাস্তা নয় এমন মন্তব্যের উত্তরে হুমকিদাতা জানায়, তারা শুধুমাত্র তাদের কর্তব্যটুকুই করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একই ব্যবহারকারীর অভিন্ন বার্তা সম্বলিত টুইটের দু’টি স্ক্রিনশট পাওয়া গেছে। খুঁজে পাওয়া স্ক্রিনশট দু’টিতে সময়ের ভিন্নতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ২০ বিদেশি নাগরিকসহ ৩০ জন নিহত হন।

সুত্র : আমাদের সময়.কম / শীর্ষ নিউজ / আজ ডটকম
http://www.amadershomoy.biz/beta/2016/07/04/635090/

next-attack-msg

নিহতদের ১৩ জনের পরিচয় মিলেছে

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন বাংলাদেশি নাগরিক ফাইয়াজ, ইশরাত আকন্দ, অনিন্দিতা কবির ও ভারতীয় নাগরিক আরিশা জৈন। বাকি ইতালির ৯ নিহত নাগরিক হচ্ছেন, এরা হলেন আদেলে পুগলিসি, মার্কো তন্দাত, ক্লদিয়া মারিয়া দ’আন্তোনা, নাদিয়া বেনেদেত্তি, ভিনসেঞ্জো দ’আলেত্রো, মারিয়া রিভোলি, ক্রিস্টিয়ান রোজি, ক্লদিও কাপেল্লি এবং সিমনা মন্তি।

নিহতদের মধ্যে ফাইয়াজ শিল্পপতি লতিফুর রহমানের নাতি, ইশরাত আকন্দ আফতাব গ্রুপের মালিকের মেয়ে, অনিন্দিতা কবীর ফিতান এলিগ্যান্ট গার্মেন্টস মালিকের মেয়ে এবং ভারতীয় নাগরিক আরিশা জৈন।

ইতালির ৯ নাগরিক নিহত হবার ঘটনা নিশ্চিত করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেনটিলোনি। স্পুটনিক নিউজকে একথা বলেন। তবে জাপানের সাত নাগরিক নিহত হবার কথা নিকি ও জাপান টাইমসে জানানো হলেও তাদের পরিচয় দেয়া হয়নি। নিহত জাপানি নাগরিকদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও ২ জন নারী।

এছাড়া শুক্রবার সন্ত্রাসীদের ওই হামলায় পুলিশের ওসি সালাউদ্দিন খান ও এসি রবিউল করিম মারা যান। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে ৬ সন্ত্রাসী মারা গেছে যাদের পরিচয় এখনো পাওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মোট নিহত হয় ২৮ জন।

সুত্র – আমাদের সময়.কম

dead 13 in gulshan

হলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি উদ্ধার (ভিডিও দেখুন)

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মিকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান প্রাথমিকভাবে সমাপ্ত করা হয়েছে।
অভিযানে পাঁচজন হামলাকারীর নিহত হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে চ্যানেল আই অনলাইন এ খবর দিয়েছে।
রেস্টুরেন্টে আটকা পড়া জিম্মিদের উদ্ধারে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। জিম্মি থাকা ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনী সন্দেহভাজনকে ১০ আটক করা হয়েছে বলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির এক খবরে বলা হয়েছে।
তবে বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়েছে, অভিযানে জিম্মি থাকা ১৪জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে রেস্টুরেন্টের মধ্যে এলিগেন গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবা আহমেদের মেয়ে অবনিতা কবীর ও তার দুই বান্ধবী ছিল এবং আফতাব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার খানের ছেলে তাবিদ ও ৭১ টিভির সিনিয়র ক্যামেরাম্যানের এক আত্মীয় ও ট্রান্সকম গ্রুপের কর্ণধার লতিফুর রহমানের নাতি ফাইয়াজ ও হলি আর্টিজেনের ফ্যাক্টরির কর্মচারী ইমাম হোসেন সবুজ।
পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে খবরে আরো বলা হয়, উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। উদ্ধার হওয়া একজন বিদেশিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে রেস্টুরেন্টটিতে মোট কতজন জিম্মী ছিল সেবিষয়ে এখনো কিছু জানা যাচ্ছে না।

এর আগে সকাল পৌনে আটটার দিকে গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জিম্মিদের উদ্ধারে কমান্ডো অভিযান শুরু হয়। সেনা ও নৌ কমান্ডোরা ছাড়াও অভিযানে অংশ নিয়েছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যরা। শুক্রবার রাতে অস্ত্রধারীদের আক্রমণের প্রায় দশ ঘণ্টা পর অভিযানটি শুরু হয়।
এদিকে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে আমাদের সময় ডটকমের প্রতিবেদককে বলেন, রেস্টুরেন্টের ভেতরে পাঁচজন মারা গেছে। ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ও উদ্ধার করা ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
১৩৩০৭০থ১৪৮ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা আমাদের প্রতিবেদকেরা জানান, উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে ওই রেস্তোরাঁয় সাতটি অ্যাম্বুলেন্স নেওয়া হয়। সেগুলোতে অনেককে সরিয়ে আনা হয়।
এদিকে অভিযান শুরুর আগে আইএসের (ইসলামিক স্টেট) কথিত বার্তা সংস্থা আমাক নিউজ ওই রেস্তোরাঁর ভেতরে তাদের হাতে নিহত কয়েকজনের রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করে। আমাক নিউজের সেসব ছবি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ টুইটারে প্রকাশ করে অভিযান শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগে।
প্রতিবেদকরা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার পরপর সোয়াতের একটি দল একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে ওই রেস্তোরাঁ দিকে এগোতে থাকে। এরপর পর কয়েক দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিত অভিযান শুরু করেন।
এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বরের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ৮ থেকে ১০ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর তারা ওই রেস্তোরাঁয় থাকা লোকজনকে জিম্মি করে। জিম্মিদের মধ্যে অন্তত ২০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর থেকে পুরো চার কিলোমিটার এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রাখেন।
আর্টিজান বেকারি নামের ওই রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণ পর পুলিশের অগ্রগামী দলের দুই কর্মকর্তা জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় নিহত হন। আহত হন অন্তত ৪০ জন পুলিশ সদস্য। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।
গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই হাসপাতালে মোট ৩৬ জন আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন। এখন ভর্তি আছেন ২৪ জন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
এই ধরনের অতর্কিত হামলা চালিয়ে মানুষজনকে জিম্মি করার ঘটনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জিম্মিদের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে অভিযান শুরুর আগে আইএসের (ইসলামিক স্টেট) কথিত বার্তা সংস্থা আমাক নিউজ ওই রেস্তোরাঁর ভেতরে তাদের হাতে নিহত কয়েকজনের রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করে। আমাক নিউজের সেসব ছবি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ টুইটারে প্রকাশ করে অভিযান শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগে।
সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সেনা, নৌ কমান্ডো ও সোয়াতের অভিযান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সেনাপ্রধান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। ১২৫ জন কমান্ডো ভিতরে প্রবেশ করেছে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডিবির সহকারী (এসি) রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশসহ অর্ধশত আহত হয়েছেন।

army-attack

রাবি শিক্ষক হত্যায় জড়িত তারই ছাত্র শরিফুল (ভিডিও দেখুন)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকা-ের ঘটনায় তারই ছাত্র শরিফুলের জড়িত থাকার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কয়েকজন ছাত্রের ফেসবুকে একটি পেইজের সম্পৃক্ততা।

যদিও শরিফুলের অবস্থান জানা যায়নি এখনো। তবে গেলো এক বছরে এই শিক্ষার্থী রহস্যময় বিদেশ ভ্রমণের তথ্য এসেছে তদন্ত সংস্থার হাতে। পরিবার বলছে, তাদের সাথে যোগাযোগ নেই শরিফুলের।

শরিফুল একই কলেজের ইংরেজী বিভাগের ছাত্র। তার বাড়ি বাঘমারার প্রত্যন্ত গ্রাম শ্রীপুরে। রাজশাহী কলেজে ইংরেজী বিভাগে ভর্তির পর থেকেই একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে সে।

শরিফুলের মা লায়লা আরজুমান্দ বানু বলেন, আমার ছেলে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলো। কিন্তু সে হঠাৎ করে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়াটা আমরা মেনে নিতে পারিনি। সে কি কারণে এরকম হলো আমরা তার কিছুই জানি না। এখন তার সাথে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

শরিফুলের বদলে যাওয়া প্রথম দিকে বুঝতে পারেননি তার বাবা-মা। আর পরে যখন বুঝতে পারলো তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ততক্ষণে বাড়িও ছেড়েছে শরিফুল।

অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যা মামলার তদন্ত মেনে পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে এ হত্যাকা-ের সাথে শরিফুলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সেই সাথে একই বিভাগের আরো একজন শিক্ষার্থীর নাম জড়িত থাকারও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তারা সবাই একই সঙ্গে থাকতো। তাদের ৭ থেকে ৮ জনের একটি গ্রুপ ছিলো। ফেসবুকে একটি পেইজও চালাতো তারা।
আরএমপি অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজউদ্দিন বলেন, শরিফুলকে খোঁজার ব্যাপারে তার আত্মীয়-স্বজন বা যেসমস্ত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষ সেগুলোর মাধ্যমে তাকে খুঁজে বেড় করবো। তাকে পেলে তার সাথে কারা কারা জড়িত ছিলো সবই জানা যাবে।

এদিকে বাড়ি কিংবা কলেজের সাথে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও গত এক বছরে একাধিক বার শরিফুল দেশের বাইরে গেছে বলেও তথ্য আছে। সূত্র : যমুনা টিভি

rejaui-marder-350x253