Category Archives: প্রতিবেদন

মীর কাসেম আলীর ফাঁসি: পাকিস্তানের পর এবার তুরস্কের প্রতিক্রিয়া

মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পাকিস্তানের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তুরস্কও। আজ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এতে বলা হয়, আমরা (তুরস্ক) দুঃখের সঙ্গে জানতে পেরেছি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি যে, এ পদ্ধতিতে অতীতের ক্ষত সারানো যাবে না এবং আমরা আশা করি এই ভুল চর্চা বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের মধ্যে বিভেদ বাড়াবে না। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ বিষয়ে আগেই বিবৃতি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

turka

সুত্র – দৈনিক ভোরের কাগজ

ফেসবুক লাইভে নতুন হাতিপু কাণ্ড দেখুন


ফেসবুকের আকর্ষণীয় একটি ফিচার হচ্ছে, ‘ফেসবুক লাইভ’। এর মাধ্যমে ফোনে ভিডিও ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে তা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারের সুবিধা পাওয়া যায়।

আকর্ষণীয় এই সুবিধাটি এতদিন কেবলমাত্র সেলিব্রিটি এবং ভেরিফায়েড প্রোফাইল ও পেজের জন্য প্রযোজ্য থাকলেও, এখন থেকে বিশ্বব্যাপী সকল ফেসবুক ব্যবহারকারী ক্যামেরাযুক্ত মোবাইলের মাধ্যমে এই ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবেন।

৬ এপ্রিল বুধবার, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ৮ টায় (বাংলাদেশের সময় রাত ৯টায়) ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ তার ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের এই সুখবর জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা সবার জন্য ফেসবুক লাইভ চালু করছি। এর মাধ্যমে সহজেই লাইভ ভিডিও তৈরি ও শেয়ার করা যাবে। লাইভ সুবিধা যেন পকেটে টিভি ক্যামেরা থাকার মতো।’

৬ এপ্রিল বুধবার, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটায় (বাংলাদেশের সময় রাত সাড়ে ১১টায়) মার্ক জাকারবার্গ ‘ফেসবুক লাইভ’ ফিচারটির নিজের লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করেন এবং নতুন এ সেবাটির বিষয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন।

ফেসবুকে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করার জন্য স্ট্যাটাস আইকনের নিচেই পাওয়া যাবে লাইভ স্ট্রিমিং ভিডিও অপশন। প্রাইভেসি নির্ধারণের মাধ্যমে শুধু বন্ধুদের সঙ্গে নাকি টাইমটাইনে সকলে ভিডিওটি দেখতে পাবে, তা নির্ধারণ করা যাবে। লাইভ স্ট্রিমিং এর সময় কমেন্টও করা যাবে।

10

এবার লাশ ভেঙে কাঁধে নিয়ে থানায় প্রেরণ (ভিডিও)


ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে ১০ বছরের মেয়েকে নিয়ে নিজের কাঁধে করে স্ত্রীর লাশ বহন করার একদিন পর একই রাজ্যে আরো একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।
বালেশ্বরের হাসপাতালের কর্মীরা মরদেহটিকে নিয়ে যাচ্ছিল বাঁশে করে। মৃহদেহের পা, নিতম্বসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে আঁটসাঁট করে কাপড় ও প্লাস্টিকে বেঁধে বাঁশ দিয়ে বহন করছে কর্মীরা।
কোনো এ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বালেশ্বরের ৭৬ বছরের বিধবা ‘সালামানি বারিক’ নামের ওই মহিলাকে ৩০ কিলোমিটার দূর সরো টাউনে ফেরত পাঠানো হয়। বুধবার (২৪ আগষ্ট) ওই মহিলা ট্রেনের নিচে চাপা পড়েছিল ওই নারী।
সারা টাউনে একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ছাড়া কোনো হাসপাতাল না থাকায় পোস্ট মডেমের জন্য ট্রেনের মাধ্যমে তাকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বালেশ্বরের হাসপাতালে পাঠানো। লাশটি বহনের গাড়ীর জন্য খরচ অনেক বেশি বলে হাসপাতালের কর্মীদের পায়ে হেঁটে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা নিতম্ব থেকে পুুরো শরীর ভেঙে দুই কিলোমিটার দূরে রেল স্টেশনে দিয়ে আসে লাশটিকে।
বিধবার ছেলে রবীন্দ্র বারিক বলেন, তারা আমার মৃত মায়ের ভাঙা শরীর নিয়ে এসেছে। আমার কোনো কিছুই করার ছিল না। আমি অসহায়। আমি আমার মায়ের লাশের এই পরিণতির জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায় বিচার আশা করছি।
লাশ নিয়ে এমন নির্দয় আচরণের বিষয়ে জানার পরে উড়িষ্যার মানবাধিকার কমিশন বালেশ্বর জেলার কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কাছে এই বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়েছে। কালাহানদিতে দানা মাঝি নামের এক হতদরিদ্র নিজের ১০ বছরের মেয়েকে নিয়ে ৬ ঘন্টা মৃত স্ত্রীর লাশ কাঁধে করে বহনের জন্য উড়িষ্যা কর্তৃপক্ষ তীব্র সমালোচনার মধ্যে রয়েছে।
উড়িষ্যা রাজ্যে মৃত দেহ বহনের জন্য ৩৭টি সরকারি হাসপাতালে ৪০টি লাশবাহী গাড়ী থাকার কথা। কালাহানদিতে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য একটি লাশবাহী গাড়ী রয়েছে বলে জানা যায়।
এনডিটিভি থেকে নেয়া

Odisha-woman-broken-body-550x338

একজন পাড়া দিয়ে ধরত অন্যজন মারত, এরাও মানুষ!! (পড়ুন ও শেয়ার করুন)

তারা আামাকে ঠিক মতো খেতে দিত না। তাদের উচ্ছিষ্টগুলো আমাকে খেতে দিত। একজন পা দিয়ে আমাকে পাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, অন্যজন মারত। সারা শরীরে লাঠি দিয়ে মারত। আমার পাছায় বেশি মারত। শাহাদাতের বৌ কাঠের খুন্তিতে গরম তেল নিয়ে আমার হাঠুতে ছ্যাকা দিত। শাহাদাত বেলন দিয়ে মেরে রক্ত বের করে দিত।
এভাবেই শিশু গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপী আদালতের কাছে তুলে ধরেছে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রীর নিত্যের নির্মম-নিষ্ঠুরি বিবরণ।
বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৫-এর বিচারক তানজিনা ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্য দেয় হ্যাপী। ঢাকা মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার কাগজ উপস্থাপন করেন।
হ্যাপী বলে, শাহাদাত হোসেনের বৌ কাঠের খুন্তিতে গরম তেল নিয়ে আমার হাঠুতে ছ্যাকা দেয়। একদিন রাতে আমি বাচ্চার সুজি রান্না করছিলাম। দেরি হয়েছে বলে শাহাদাত ও তাঁর বৌ আমাকে মারতে শুরু করে। শাহাদাতও বেলন নিয়ে এসে আমাকে মারধর করে। আমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে বেলন লাটির একটি অংশ লেগে গর্ত হয়, রক্ত বের হয়। এতে তাঁরা মারা থামায়। ক্ষততে ন্যাকড়া বেঁধে আমি কাজ করি। ঐ রাতে আমি ভয়ে তাদের কথামত ঘরের সব কাজ করি।
সে আরো বলে, ‘আমি ক্রিকেটার শাহাদাতের বাসায় প্রায় এক বছর যাবৎ কাজ করি। আমাকে দুই হাজার টাকা বেতন দিত। আমি বাসার সব কাজ করতাম। আমার কাজে কোনো ভুল হলেই শাহাদাত আর তার বৌ আমাকে মারত।’
নিষ্ঠুরতার বিবরণ দিয়ে হ্যাপী বলে, ‘একজন পা দিয়ে আমাকে পাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, অন্যজন মারত। সারা শরীরেও লাঠি দিয়ে মারত। আমার পাছায় বেশি মারত। আবার মারার জায়গায় বরফ দিয়ে ধরে রাখতো সারা রাত। আমি বরফ সরালে তাঁরা আবার পিটাত। আমার বরফ ধরে রাখতে কষ্ট হতো।’
‘প্রায়ই শাহাদাত হোসেন আমার গলা টিপে ধরত। আমার শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে আমি শ্বাস নিতাম। তখন আমাকে আরো মারত। তার (শাহাদাত) বৌ মাঝে মাঝে আমার গলা টিপে ধরেছে। আমাকে ডাল ঘুটনি দিয়ে মারতে মারতে চার-পাঁচটি ডাল ঘুটনি ভেঙ্গে ফেলেছে। আমাকে ভাতের চামচ দিয়ে মারত। ভাতের চামচ অনেক মেরে ভেঙ্গেছে।’
‘রুটি বানানোর বেলন দিয়ে মারত। আমি ওটা লুকিয়ে রেখেছিলাম বলে ওরা আরো একটি বেলন কিনে আনছে। শাহাদাত হোসেনের বৌ কাঠের খুন্তিতে গরম তেল নিয়ে আমার হাঠুতে ছ্যাকা দেয়।’
‘একদিন রাতে আমি বাচ্চার সুজি রান্না করছিলাম। দেরী হয়েছে বলে শাহাদাত ও তার বৌ আমাকে মারতে শুরু করে। শাহাদাত ও বেলন নিয়ে এসে আমাকে মারধোর করে। আমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে বেলন লাটির একটি অংশ লেগে গর্ত হয়, রক্ত বের হয়। এতে তারা মারা থামায়। ক্ষততে ন্যাকড়া বেঁধে আমি কাজ করি।ঐ রাতে আমি ভয়ে তাদের কথামত ঘরের সব কাজ করি।’
‘শাহাদাত তার বৌকেও মারত। আমার চোখে মুখে ঘুষি দিত। আমার বাঁ চোখ ফুলে প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একদিন শাহাদাতের বৌ আমাকে মুখ চেপে ধরে মারত।’
‘সে একদিন আমার মুখ চেপে ধরতে গিয়ে তার নখ আমার বা গালে লেগে দাগ হয়ে যায়। পরের দিন শাহাদাৎ হোসেন আমার বা গালে চড় মারলে দাগ পড়ে যায়। তার নখ লেগেও বাম গালে দাগ হয়।
‘তারা আামাকে ঠিক মতো খেতে দিত না। তাদের উচ্ছিষ্টগুলো আমাকে খেতে দিত। আমি শেষ ঘটনার কয়েকদিন আগে আসামিদের দেশের বাড়িতে যাই। সেখানে আমি শাহাদাত হোসেনের মায়ের কাছে নালিশ করি। তিনি আমাকে মারতে নিষেধ করেন।’
‘সেই রাতে আসামিরা ঢাকায় আসার পথে গাড়িতে শাহাদাত হোসেনের বৌ আমাকে পানির বোতল দিয়ে মারে।’
‘গাড়িতে আমাকে মারার জন্য তিন চারটা লাঠি ছিল। গাড়িতে আমাকে সে চর ও ঘুষি মারে। এর পরই সুজি রান্নার ঘটনা নিয়ে শাহাদাতের বৌ আমাকে পাড়া দিয়ে ধরে। আমি চিৎকার করি সে জন্য আমার মুখে পাতা দিয়েছিল, মেরেছিল। মারের কারণে আমার বাম হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে।’
‘প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একদিন দুপুরের দিকে বাচ্চার সুজির রং হলুদের কারণ জিজ্ঞাসা করে শাহাদাতের বৌ। আমি ভয়ে মিথ্যা বলি যে সুজিতে আমি হলুদ মিশাইছি। শাহাদাৎ হোসেন তখন প্রেকটিসে ছিল। তার বৌ এটা নিয়ে আমার পেটে ঘুষি মারে। আমাকে মারার জন্য একটি লাঠি কিনে আনতে বলে।’
‘আমি ভয়ে গেট খুলে বাসা থেকে বের হয়ে ৬নং বাজারের সামনে যাই। সেখানে একজন মেয়ে আমাকে কী হয়েছে জিজ্ঞেস করে।আমি তাকে সব ঘটনা খুলে বলি। সে আমাকে সাংবাদিকের কাছে নিয়ে যায়।এর পর আমাকে ডাক্তার দেখানো হয়।এক্স-রেতে দেখা যায়, আমার বাম পা ভেঙ্গে গেছে। তারা আমাকে সবসময় তালা দিয়ে আটকে রাখত। রাতে বাথরুমে ঘুমাতে দিত।’
মহানগর হাকিমের সাক্ষ্যের পর হ্যাপীকে জেরা করেন শাহাদাতের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু। পরে বিচারক আগামী ২৪ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন ভিকটিম ও মামলার বাদীকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দিন রাখা হয়েছে।
গত বছরের গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় ক্রিকেটার শাহাদাত তাঁর বাসার গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে একটি জিডি করেন। এরপর একই দিন রাত ৮টার দিকে মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে হ্যাপীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে হ্যাপী অভিযোগ করে শাহাদাতের বাসায় তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হতো।
পরে পুলিশ হ্যাপীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে। একই সঙ্গে সাংবাদিক খোন্দকার মোজাম্মেল হক শিশু নির্যাতনের দায়ে শাহাদাতের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
গত বছরের ৫ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে শাহাদাত আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে স্ত্রী নিত্যকে গত ৪ অক্টোবর ভোরে দিবাগত গভীর রাত সাড়ে ৩টায় মালিবাগের পাবনা গলিতে তার বাবার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ২২ ফেব্র“য়ারি এ মামলায় ক্রিকেটার শাহাদাত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় বর্তমানে তারা দুজনই জামিনে রয়েছেন।

সুত্র – অনলাইন বাংলা

child-abused

মদ খেয়ে ড্রাইভিং, মন্ত্রীর পদত্যাগ, পড়লে অবাক হবেন

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ধরা পড়ার পর পদত্যাগ করেছেন সুইডেনের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী আইদা হাদজিয়ালিক। খবর বিবিসির।

২৯ বছর বয়সী হাদজিয়ালিক সুইডেনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম মুসলিম মন্ত্রী।তিনি মধ্য বামপন্থী সরকারের উচ্চ শিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।পদত্যাগের পর হাদজিয়ালিক এ ঘটনাকে তার জীবনের ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন।হাদজিয়ালিক পাঁচ বছর বয়সে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা থেকে সুইডেনে এসেছিলেন।

ডেনমার্ক ও সুইডেনের সংযোগ সেতুতে পৌঁছার আগে তিনি দুই গ্লাস মদ পান করেন। সেতু পার হওয়ার সময় পুলিশ তাকে থামায়।পুলিশ হাদজিয়ালিকের রক্ত পরীক্ষা করে প্রতি লিটারে ০.২ গ্রাম মদের উপস্থিতি পেয়েছে। এ কারণে তার ছয় মাসের জেল হতে পারে।

হাদজিয়ালিক তার ভুল স্বীকার করে বলেছেন, কোপেনহেগেনে রাত্রি যাপনকালে তিনি এক গ্লাস স্পার্কলিং ওয়াইন এবং পরে আরও এক গ্লাস রেড ওয়াইন পান করেন।

এর চার ঘণ্টা পর তিনি সুইডেনের দক্ষিণের শহর মালামোতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন।হাদজিয়ালিক বলেন, তিনি ভেবেছিলেন যে তার শরীর অ্যালকোহল মুক্ত হতে যথেষ্ট সময় পাবেন।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করাই সমীচীন মনে করেছি। কারণ, আমি বিশ্বাস করি যে, আমি যেটা করেছি তা গুরুতর অপরাধ।’

সুইডেনে নির্দিষ্ট মাত্রায় মদ পান করে গাড়ি চালানোর অনুমোদন রয়েছে।

uhij

এক লাখ বছর পর মানুষ দেখতে কেমন হবে?

মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে পারিপার্শিকতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে সব প্রাণীর মধ্যেই পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনকে বিবর্তন বলা হয়। বিবর্তনের ধারা এখনও অব্যাহত আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের অনেক অঙ্গও অপ্রয়জনীয় হয়ে পড়েছে। যেমন অ্যাপেন্ডিকস। এখন আমাদের আর অ্যাপেন্ডিকসের প্রয়োজন পড়ে না।

যদি এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকে তাহলে মানুষের দৈহিক পরিবর্তন চলতেই থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী বিশ হাজার বছরের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্কে ও করোটির আকার বাড়তেই থাকবে।

আগামী এক লাখ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন আরও দৃষ্টিগোচর হবে। সূর্যের আলোতে অতিরিক্ত আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্মির জন্য ত্বকের রঙে পরিবর্তন আসবে। নাকের আকার বৃদ্ধি পাবে ও চোকের আকারও বেশ বড় হয়ে যেতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

what-humans-will-look-like3-550x239

জুমার নামাজে দেশের সব মসজিদে একই খুতবা

Jummah-Khutba

Friday Jummah Khutba

দেশের সব মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজে একই খুতবা পড়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জুমার নামাজে দু’টি খুতবা পাঠ করা হয়। এর দ্বিতীয়টি সকল মসজিদের জন্য একই। প্রথম খুতবাটি ভিন্ন হওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই অভিন্ন খুতবাটি পাঠের অনুরোধ জানিয়েছে।

ফাউন্ডেশনের একটি সূত্র বলছে, সারা দেশের মসজিদগুলোতেও এই খুতবার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর শান্তি ও মানবতার কল্যাণে ইসলামের প্রকৃত ব্যাখা তুলে ধরতে খুতবার বয়ানের জন্য জাতীয় দিকনির্দেশনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। জঙ্গি কার্যক্রম ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের তরফেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে যে খুতবাটি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে তা নিচে সংযুক্ত করা হলো।

সুত্র – আমাদের সময়.কম

Jummah-Khutba-120160714211635-400x400-1

সাংবাদিক সম্মেলনের ভেন্যু পাচ্ছেন না জাকির নায়েক (ভিডিও)


নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সন্ত্রাসবাদে উস্কানি দেয়ার অভিযোগের জবাব দিতে মুম্বাইয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার ভেন্যু পাচ্ছেন না ডা. জাকির নায়েক। বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) মুম্বাইয়ে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ভিডিও স্কাইপের মাধ্যমে জাকির নায়েকের সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা থাকলেও বুধবার হোটেলটির মালিক এ ব্যাপারে ভেন্যু দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। হোটেল মালিক জানান, জাকির নায়েককে সাংবাদিক সম্মেলন করার জন্য ভেন্যু দেয়ার ব্যাপারে আমাদের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। খবর বিবিসি উর্দুর।

ডা. জাকির নায়েকের ব্যক্তিগত সহকারী জানান, ‘এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ে চারটি ফাইভ স্টার হোটেলের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কেউ ভেন্যু দিতে রাজি হচ্ছে না। সবাই মুম্বাই পুলিশের নিষেধাজ্ঞার বরাত দিয়ে অপারগতা প্রকাশ করছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এ মাসের শুরুতে গুলশানে সন্ত্রাসী হামলাকারীদের কেউ কেউ জাকির নায়েকের ভক্ত, জাকির নায়েক সন্ত্রাসবাদে উস্কানি দেয়Ñ এমন অভিযোগে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার উভয় দেশে জাকির নায়েকের মালিকানাধীন পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। একই সাথে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উত্থাপন করে। এসব অভিযোগের উত্তর দিতেই বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন ডা. জাকির নায়েক।

এদিকে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে উস্কানি দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র স্টেট ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট (এসআইডি)। ভারতের ফিরলে জাকির নায়েককে গ্রেফতার করা হবে না বা তাকে গ্রেফতারের কোন কারণ নেই বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

6783945

আমাকে ৪০ লক্ষ্য বাংলাদেশি আনুসরন করে : ডঃ জাকির নায়েক (ভিডিও বার্তা)

‘ইসলাম জঙ্গীবাদ ও হত্যা সমর্থন করেনা’ জাকির নায়েকের এমন বক্তব্যের পরেও
পিস টিভি বন্ধ করে জাকির নায়েককে গ্রেফতারের দাবি ভারতের মুসলমান নেতাদের।

”গুলশান হামলায় অংশগ্রহনকারী নিহত দুই শীর্ষ জঙ্গী ভারতের ইসলামী নেতা ড. জাকির নায়েককে অনুসরন করতেন” এমন শিরোনামে বাংলাদেশের একটি শীর্ষ ইংরেজি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসেছে ভারত। গত কদিন ধরে চলে আসা নানা আলোচনার পর ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও পিস টিভির প্রতিষ্ঠাতা জাকির নায়েককে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের মুসলমান নেতারা।

গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের অন্তত দুইজন জাকির নায়েকের মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন বলে জানার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জাকির নায়েকের বক্তব্য খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে।

এরইমধ্যে মুম্বাইয়ে ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের বাইরে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাকির নায়েকের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে’। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের

উত্তর প্রদেশের বেরেলি অঞ্চলের ইমাম মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘গুলশানে জঙ্গি হামলাকারীরা জাকির নায়েকের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। তার বক্তব্য সন্ত্রাসীদের উষকে দিচ্ছে, মুসলমানদের উগ্র হতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।’

মূলতঃ এ জন্যই জাকির নায়েকের গ্রেফতার দাবি করেন তিনি।

সুন্নি হানাফি বারেলভি গোত্রের এ ইমাম ঈদের নামাজে দেওয়া বক্তব্যে জাকির নায়েককে ‘দ্রুত গ্রেফতার’ এবং তার পিস টিভি ‘অবিলম্বে নিষিদ্ধের’ দাবি জানান।

বেরেলি শহরের মওলানা আসজাদ রাজা খানও জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা ছড়ানোর’ অভিযোগ তুলেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যমন্ত্রী এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাকির নায়েকের বক্তব্য খতিয়ে দেখবে। সেগুলো পর্যালোচনার পর তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য যেভাবে এসেছে তা খুবই আপত্তিকর।’

প্রসঙ্গত, দ্যা ডেইলি স্টারের একটি খবরে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে ঢাকায় গুলশানের হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত একজন, রোহান ইমতিয়াজ (আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ) ফেসবুকে জাকির নাইককে ‘ফলো’ করত এবং তার কিছু পোস্ট সে নিজের ওয়ালে শেয়ারও করেছিল।

এই পটভূমিতে গুলশানের হামলাকারীরা তার বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিল কি না সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এদিন নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৪ জুলাই বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ও পরবর্তিতে ৫ জুলাই ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় হামলাকারী দুই নিহত জঙ্গীর ড. জাকির নায়েককে অনুসরনের খবর বেরুলে এ প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান ড. জাকির নায়েক ।

বর্তমানে উমরাহ করতে সৌদি আরবে রয়েছেন জাকির নায়েক। তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ এ অভিযোগ ওঠার পর মক্কা নগরী থেকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামিক স্টেটকে অনৈসলামিক বা ‘ইসলামবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামের নাম ব্যবহার করে আমরা ইসলামের নিন্দা করছি… ইরাক সিরিয়ার ইসলামিক স্টেট ইসলামবিরোধী, যারা নিরপরাধ বিদেশিকে হত্যা করছে। ইসলামের দুশমনরা এ নাম (আইএস) দিয়েছে।’

উল্লেখ্য, জাকির নায়েকের বক্তব্যের কারণে তার প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য ও কানাডায় নিষিদ্ধ হয়। এমনকি মালয়েশিয়াতেও জাকির নায়েকের বক্তব্য প্রচারের অনুমতি নেই।

dr.-jakir-nayek-says

(ভিডিও) চাঞ্চল্যকর সব নতুন তথ্য দিচ্ছেন হামলায় বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা


গুলশান হামলায় বেঁচে যাওয়া হোলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় খেতে আসা শারমিনা পারভীন, আর ওই রেস্তোরাঁর একজন বাবুর্চি দেলোয়ার হোসেন কাছ থেকে সেই রাতের ঘটনাবলীর আরো চাঞ্চল্যকর সব নতুন বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে।

সেদিন রাত ন’টা থেকে পরদিন সকালে কমাণ্ডো অভিযানের আগ পর্যন্ত হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর ভেতরে কি চলছিল? জিম্মিদের কখন হত্যা করা হয়েছে? বেঁচে যাওয়াদের সাথে কি আচরণ করেছে জঙ্গিরা? হামলাকারীরা কতজন ছিল?

শুক্রবার রাত ন’টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর চিত্রটা অনেকটা এই রকম। লন আর বসবার জায়গাগুলোতে বসে আছেন জাপানি অতিথিদের একটি দল, ইটালিয়ান অতিথিদের বড় একটি দল, ছোট ছোট দলে বিভক্ত আরো কিছু বাংলাদেশী এবং আরো দুটি দেশের নাগরিক। কারো কারো টেবিলে খাবার দেয়া হয়েছে, কারো জন্য খাবার তৈরি হচ্ছে।

রেস্তোরার একজন বাবুর্চি দেলোয়ার হোসেন, রসুইঘরে পৌঁছানো অর্ডারের মধ্যে পাস্তা, মাছ, গরুর মাংস এবং মুরগির মাংসের আইটেমের কথা মনে করতে পারলেন।

আর খেতে আসা অতিথিদের একজন শারমিনা পারভীন করিম, তখন তারা সপরিবারে বসে কেবলমাত্র খাবারের অর্ডার দিতে যাচ্ছেন। তার সাথে দুই সন্তান ও স্বামী বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম।

“খাবার অর্ডার করতে যাব। মেন্যু দিয়ে গেছে। সেই মুহুর্তেই গোলাগুলির শব্দ।

“কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি তারা আমাদের সামনে। শব্দ শুনে যেটা বুঝলাম, ওরা বাইরে লনে এ্যাটাক করেই তারপর ভেতরে এসেছিল। আমাদেরকে হেড ডাউন করতে বলল। আমরা মুসলিম কিনা জিজ্ঞেস করল। ওই টেবিলে শুধু আমাদের ফ্যামিলিই ছিলাম” – বলছিলেন মিসেস করিম।

“তারপর আমাদের সামনে ও পেছনের টেবিলে যারা ছিল তাদের শুট করল এবং চাপাতি দিয়ে কোপানো শুরু করল। আগে গুলি করে তারপর কাছে গিয়ে কুপিয়েছে।”

মিসেস করিমের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে শুক্রবার রাত নটার কিছু আগে বা পরেই লাশে পরিণত হয়েছিলেন হতভাগ্য ৭ জন জাপানী, ৯ জন ইটালিয়ান, একজন ভারতীয়, দুজন বাংলাদেশী এবং একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।

তারপর প্রায় সারারাত ধরেই একটি টেবিলে করিম পরিবারকে বসিয়ে রাখা হয়। তাদের টেবিলে এনে বসানো হয় আরো দুজন তরুনী এবং দুই ব্যক্তিকে। তবে সকাল নাগাদ কমাণ্ডো অভিযানের আগেই তাদের বেরিয়ে যেতে দেয় জঙ্গিরা।

এদিকে রাতে যখন গুলি করতে করতে সন্ত্রাসীরা রেস্তোরাঁয় ঢুকছিল, তখন দোতলার ফ্রিজ থেকে মাছ আনতে গিয়েছিলেন বাবুর্চি দেলোয়ার হোসেন। গুলির শব্দ পেয়ে তিনি আরো কয়েকজন সহকর্মীর সাথে দৌড়ে একটি বাথরুমে ঢোকেন। একটি বাথরুমে মোট ৯ জন।

হামলাকারীরা সেটা টের পেয়ে বাথরুমটির দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দেয়। ভোর পর্যন্ত ছোট্ট বাথরুমটিতে ঠাসাঠাসি করে কোনমতে প্রাণ রক্ষা করেন রেস্তোরার নয় কর্মী।

এক পর্যায়ে তারা নিজেদের জামাকাপড় খুলে ফেলেন। তারপর অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হলে ভোরে দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসেন, তখনও সন্ত্রাসীদের দখলে রেস্তোরাঁ, বেরিয়ে তারা সামনে পড়েন হামলাকারীদের। মি. হোসেন বলছেন, ৯ জনের ৩ জনই ভয়ে দোতলা দিয়ে লাফিয়ে পাশের ভবনে চলে যায়।

“আমাদের তিন জনকে ভেতরে নিয়ে যায়। ভেতরে দেখলাম অনেক রক্ত আর লাশ। সবাই ফ্লোরে পড়ে আছে”।

হামলাকারীরা চারজন ছিল উল্লেখ করে মি. হোসেন বলেন, “খবরে ছয় জন, সাত জন, আট জন দেখায়। কিন্তু আসলে ওরা চার জন ছিল।”

“তাদের হাতে বড় একটা অস্ত্র ছিল। ছোট পিস্তল ছিল একটা। আর একটা করে চাপাতি। তাতে রক্তের দাগ।”

এর কিছুক্ষণ পরেই প্যারা কমাণ্ডোদের অভিযান শুরু হয়। প্রাণ রক্ষার্থে আবারো লুকিয়ে পড়েন দেলোয়াররা। হামলাকারীদের ভাগ্যে কি ঘটেছে সেটা দেখার সুযোগ আর হয়নি তাদের।

কিন্তু রেস্তোরাঁর সাইফুল নামে যে নিহত কর্মচারীকে জঙ্গি হিসেবে উল্লেখ করছে পুলিশ, সে জঙ্গি নয় বলে দাবী করছেন মি. হোসেন এবং তাকে রেস্তোরায় প্রবেশের সময়ে হামলাকারীরাই হত্যা করেছে বলে উল্লেখ করছেন তিনি।

দেলোয়ার হোসেন ও শারমিনা পারভীন দুজনেই বলছেন হামলাকারীরা তাদেরকে ধর্ম সম্পর্কে নানা উপদেশ দিয়েছিল।

শনিবার ভোরবেলায় দেলোয়ারকে কমান্ডোরা উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে দেয়। রবিবার তিনি সেখান থেকে লক্ষীপুরের গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেছেন।

শারমিনা পারভীন ও তার সন্তানেরা পুলিশি হেফাজত থেকে বাসায় ফিরলেও এখনও ঢাকার গোয়েন্দা কার্যালয়ে রয়েছেন তার স্বামী হাসনাত করিম।

এরই মধ্যে হলি আর্টিজান রেস্তোরার পাশের ভবনে থাকা এক কোরিয়ান নাগরিকের করা ভিডিওর সূত্র ধরে হাসনাত করিমকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য।

রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীদের সংখ্যা নিয়েও।

উৎস : সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক

567