আমার এক বন্ধু তার বাসায় মেহমানদের জন্যে ইফতারের আয়োজন করবে বিধায় আমাকে নিয়ে গেলো হোটেল সোনারগাঁয়, সেখানে এক পিস ডিম-আলু বড়ার দাম ২০০ টাকা দেখে আমাদের তো চক্ষু ছানাবড়া! তাই সেখান থেকে আমরা একেবারে ছিটকে বেরিয়ে এলাম! বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি গ্রিন রোড, সেখানকার কাজ শেষ করতে করতেই ইফতারের সময় হয়ে গেলো। কোথাও বসে ইফতার করতে হবে হাতে সময়ও বেশি নেই তাই হাতের কাছের জিঞ্জিরা হোটেল ছিল ঢুকে গেলাম।

সবার সামনে সুন্দর ইফতারের প্লেট সাজানো, মুড়ি, ছোলা, জিলাপি, খেজুর, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনী ইত্যাদি; আমার একার জন্যে যথেষ্ট! আমি দোকানের একজনকে বললাম এখানে বসে ইফতার করা যাবে, তিনি হাসিমুখে বললেন; বসেন। আমি অন্য সবার সাথে বসে গেলাম। একজনকে ডেকে বললাম ভাই একটা ঠাণ্ডা পানি দেন। উনি রেফ্রিজারেটর থেকে একটা ঠাণ্ডা পানি বের করে বললেন, পানির দাম টা দিয়ে দেন! আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, একবারে দেই! তিনি বললেন না শুধু পানির দাম দেন, ইফতার তো ফ্রী! আমি রীতিমত ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ!

সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সামনে বসা সবার দিকে একপলক নজর দিলাম! দেখলাম দোকানের বাইরেও টেবিল পেতে থরে থরে ইফতারের প্লেট সাজানো, একজন সাদা পাঞ্জাবি পরা সাদা সুশ্রুমণ্ডিত বৃদ্ধ লোক তার কর্মচারীদের বলছেন, ইফতার ফ্রী এইটা না বললে লোকজন বুঝব না! আমার ভ্যাবাচ্যাকা ভাব জারী থাকলো, সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজান হলো! আজকের ইফতার আমার কাছে অন্যরকম লাগছিল! নাথিং স্পেশাল, ওই তো ডাল আর পেঁয়াজ দিয়ে বানান পেঁয়াজু, কিন্তু কেন জানি মনে হল একটু বেশিই স্বাদ! পরিপূর্ণ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে ক্যাশে যেয়ে বললাম ভাই প্রতিদিন কি ফ্রী ইফতারই দেন?

তিনি উত্তরে বললেন প্রতিদিনই দেন এবং বিগত ১০ বছর যাবত এটা চলছে। শুধু তাই না, এই পুরো রমজান মাস জিঞ্জিরা হোটেলের সকল খাবারের বিকিকিনি বন্ধ থাকবে, ইফতার বানান ছাড়া কারিগরদের আর কোন কাজ নেই, ছুটি; পুরো রমজান মাস! পরে জানতে পারলাম ক্যাশে বসা লোকটি এই দোকানের মালিক হাজী সালেহ আহমেদের ছেলে মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম। রফিক ভাইয়ের হাতে জোড় করে ১০০ টাকা গুঁজে দিয়ে বললাম, আগামী দিনের ইফাতার বানাতে একটু হলেও কাজে লাগবে, তিনি হেসে গ্রহণ করলেন। আমি আবার পথে নামলাম, ততক্ষণে টিপ টিপ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে!

2432424