dddহাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কী পরিস্থিতিতে তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, কী পরিস্থিতিতে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এমন হয়েছে, এটা বিশ্লেষণ করে তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এ সবের সঙ্গে মিলিয়েই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হলে এই বিষয়ে কোনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য আমরা দিতে পারছি না। রবিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনাকালে তিনি এই তথ্য জানান।
এদিকে, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এখনও উল্লেখ করার মতো এ ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসনাত-তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার আগে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে তাদের বডিল্যাঙ্গুয়েজ মিলিয়ে দেখা হবে। এরপরই তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর এক কোরিয়ান নাগরিকের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে হাসনাত ও তাহমিদের ‘স্বাভাবিক আচরণ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফেসবুকে এ নিয়ে সমালোচনা চলতে থাকলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করলেও অবস্থান জানা যায়নি। সম্প্রতি দুটি গণমাধ্যমে হাসনাত-তাহমিদের আরও কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তাদের ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ দেখা গেছে। এমনকী তাহমিদের হাতে অস্ত্রও দেখা গেছে।

cccহাসনাত ও তাহমিদের সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মনিরুল ইসলাম বলেন, এই মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিট। হাসনাত করিম ও তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইনভেস্টিগেটিং সংস্থার কারও সঙ্গে কথা বলা ছাড়া এ ধরনের ‘কথিত অনুসন্ধানী’ রিপোর্ট প্রকাশ হলে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, এ রকম খবর প্রকাশিত হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাধীনভাবে যে তদন্ত করছে, সেই তদন্ত কাজে মানসিক চাপ অনুভব করতে পারে। এর ফলে তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি অনুরোধ করব তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এই ধরনের ‘কথিত অনুসন্ধানী’ রিপোর্ট প্রকাশ থেকে সবাই বিরত থাকুন। আমি আশা করব, যারা এসব কাজ করছেন, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

প্রকাশিত ছবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির যুগে অনেক কিছুই করা সম্ভব। আমরা বলব, এই ধরনের ছবি যদি কারও কাছে থাকে, তাহলে আমাদের সরবরাহ করুন। তবে আমরা অনেক ছবি পেয়েছি। যেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের সন্দেহজনকভাবেই ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করেছি। এরপর মামলা রিলেটেড কোনও তথ্য যদি তাদের কাছ পাওয়া যায়, যদি প্রতীয়মান হয় যে, এই মামলার সঙ্গে তারা জড়িত, তাহলে এই মামলায় গ্রেফতার করা হতে পারে। সেটাও জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর বলা যাবে।

ডিএমপির নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গুলশানের ঘটনায় হামলা মামলা এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যেসব পুলিশ সদস্য সেখানে প্রথম গিয়েছিলেন তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। অসংখ্য মানুষের ইন্টারভিউ হচ্ছে। ফাইনালি আমরা যাদের সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে হলেই এই মামলায় সাক্ষী করা হবে।

aaaঅভিযানের আগে সকালে আর্টিজানের ছাদে এক জঙ্গির সঙ্গে হাসনাত ও তাহমিদ

গুলশান হামলার পর থেকেই হাসনাত-তাহমিদের আচরণ ‘সন্দেহজনক’ হওয়ায় একাধিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। এমনকী হাসনাত-তাহমিদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হলে গত বুধবার রাতে গুলশানের আড়ং এবং বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে হাসনাত ও তাহমিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে দুজনের প্রত্যেককেই ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর থেকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাদের।

এদিকে, সচিবালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক দেখা করতে গেলে, সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে, তদন্ত করছে। এই কাজ ও তদন্ত করার সময় যখন যাকে প্রয়োজন মনে করছে, তখনই তাকে গ্রেফতার করছে।

অর্থ-অস্ত্র-প্রশিক্ষণদাতারা শনাক্ত

গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্তে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই ঘটনায় কারা জড়িত, কারা জড়িত নয়, কার কী ধরনের ভূমিকা—এই সম্পর্কিত অনেক তথ্যই আমাদের হাতে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হয়নি, গ্রেফতার অভিযানও শেষ হয়নি। অভিযান চলছে। আরও কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা গেলে আমরা পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে পারব।

মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা তদন্ত করছি মাসাধিক কাল হয়েছে। আমরা অনেক তথ্যই পেয়েছি। অর্থায়ন, অস্ত্রের সম্ভাব্য সরবরাহকারী, প্রশিক্ষণদাতাসহ অনেক তথ্যই আমাদের হাতে রয়েছে। সবগুলো বলার সময় এখনও আসেনি। আমরা আরেকটু আগালে বা আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে পারলে এ বিষয়ে জানানো যাবে।

তামিম-জিয়া সম্পর্কে তথ্য আসছে

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবির একটি ভগ্নাংশ জড়িত। যারা সরাসরি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের অনুসারী। এই সংগঠনের মাস্টারমাইন্ডদের একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহম্মেদ চৌধুরী। এছাড়া, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সেনাবাহিনী থেকে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকও জড়িত রয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। গত ২ আগস্ট এই দুজনকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, পুরস্কার ঘোষণার পর তামিম ও জিয়া সম্পর্কে অনেকেই তথ্য দিচ্ছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। তিনি বলেন, এমন কয়েকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছি, যেখানে তামিম ও জিয়া অবস্থান করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু অভিযানের আগেই তারা আস্তানা ছেড়ে গেছেন। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সুত্র – বাংলা ট্রিবিউন

bbb