ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে ১০ বছরের মেয়েকে নিয়ে নিজের কাঁধে করে স্ত্রীর লাশ বহন করার একদিন পর একই রাজ্যে আরো একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।
বালেশ্বরের হাসপাতালের কর্মীরা মরদেহটিকে নিয়ে যাচ্ছিল বাঁশে করে। মৃহদেহের পা, নিতম্বসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে আঁটসাঁট করে কাপড় ও প্লাস্টিকে বেঁধে বাঁশ দিয়ে বহন করছে কর্মীরা।
কোনো এ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বালেশ্বরের ৭৬ বছরের বিধবা ‘সালামানি বারিক’ নামের ওই মহিলাকে ৩০ কিলোমিটার দূর সরো টাউনে ফেরত পাঠানো হয়। বুধবার (২৪ আগষ্ট) ওই মহিলা ট্রেনের নিচে চাপা পড়েছিল ওই নারী।
সারা টাউনে একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ছাড়া কোনো হাসপাতাল না থাকায় পোস্ট মডেমের জন্য ট্রেনের মাধ্যমে তাকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বালেশ্বরের হাসপাতালে পাঠানো। লাশটি বহনের গাড়ীর জন্য খরচ অনেক বেশি বলে হাসপাতালের কর্মীদের পায়ে হেঁটে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা নিতম্ব থেকে পুুরো শরীর ভেঙে দুই কিলোমিটার দূরে রেল স্টেশনে দিয়ে আসে লাশটিকে।
বিধবার ছেলে রবীন্দ্র বারিক বলেন, তারা আমার মৃত মায়ের ভাঙা শরীর নিয়ে এসেছে। আমার কোনো কিছুই করার ছিল না। আমি অসহায়। আমি আমার মায়ের লাশের এই পরিণতির জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায় বিচার আশা করছি।
লাশ নিয়ে এমন নির্দয় আচরণের বিষয়ে জানার পরে উড়িষ্যার মানবাধিকার কমিশন বালেশ্বর জেলার কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কাছে এই বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়েছে। কালাহানদিতে দানা মাঝি নামের এক হতদরিদ্র নিজের ১০ বছরের মেয়েকে নিয়ে ৬ ঘন্টা মৃত স্ত্রীর লাশ কাঁধে করে বহনের জন্য উড়িষ্যা কর্তৃপক্ষ তীব্র সমালোচনার মধ্যে রয়েছে।
উড়িষ্যা রাজ্যে মৃত দেহ বহনের জন্য ৩৭টি সরকারি হাসপাতালে ৪০টি লাশবাহী গাড়ী থাকার কথা। কালাহানদিতে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য একটি লাশবাহী গাড়ী রয়েছে বলে জানা যায়।
এনডিটিভি থেকে নেয়া

Odisha-woman-broken-body-550x338