আমি একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। ঢাকায় একটি প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ি। বাবা বিজনেস করে। আপু আমি আমার পরিবারে সবার ছোট। BBA শেষ সেমিস্টারে পড়ি। আমার সাথে একটা মেয়ের ভার্সিটিতে উঠার সময় পরিচয় হয়। ঢাকায় আসার আগে আমি রাজশাহীতে পড়তাম একি ভার্সিটিতে। ৮ সেমিস্টারে ঢাকা চলে আসি।

আপু, আমার ক্যাম্পাস জীবনের শুরুটা অনেক সুন্দর ছিল। প্রথম দিনই একটি মেয়ের সাথে পরিচয়। তখন তাকে কী দেখে যে ভালো লেগেছিলো বলে বুঝাতে পারব না। তার পুরো মুখ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছিল। কারণ আমাদের পরিচয়ের কিছুদিন আগে তার এক্সিডেন্ট হয়েছিলো। তাও তাকে অনেক ভালো লেগেছিলো। তার একটা বয়ফ্রেন্ড ছিলো। ৫ বছরের রিলেশন। ওই ছেলেটার সাথে তার অনেক বার দৈহিক সম্পর্ক হয়েছিল। মেয়েটার বাসাতেও অনেক বার। ছেলেটার ফ্রেন্ড আর মেসে ও ফ্রেন্ডের বাসায় অনেক বার। ছেলেটি ওকে অনেক মজা দিতো সেক্সে। ওই ছেলেটার নাকি অনেক সেক্সুয়াল পাওয়ার ছিলো। তাও মেয়েটি ওই ছেলেটার সাথে থাকা অবস্থায় অন্য আর একটি ছেলের সাথে সেক্স করে। সে ছেলেটি ছিলো তার ভাইয়ের ফ্রেন্ড। তারপর মেয়েটি আবার তার পুর্বের বয়ফ্রেন্ডের কাছে ফিরে যায়। এটা ছিলো তার স্কুল ও কলেজ জীবনের ইতিহাস।

ভার্সিটিতে উঠে ওর আমার সাথে পরিচয় হয়। আমার ওকে ভালো লাগে। কিন্তু আমি ওকে কিছুই বলিনি। সেও আমার মোবাইল নাম্বার নেয় প্রথম দিনই। ওই আমাকে ফোন দিতো। আমি কখন নিজে থেকে আগ্রহ দেখাতাম না। ও বলেছিলো যে ওর বয় ফ্রেন্ড আছে। সে জন্য বেশি কথা বলতাম না। কিন্তু ও অনেক ফোন দিতো। ১০ দিনের মাথায় আমি ওকে প্রপোজ করলাম। ও এক্সেপ্ট করলো। আমাদের মাঝে দৈহিক সম্পর্ক হল ওর ইচ্ছাতে। আমি তখন জানি না যে ও আগে কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেছে। আমাদের সম্পর্কের ৮ মাসের মাথায় ওকে আমি বিয়ে করলাম ওর চাপাচাপিতে। কাউকে না জানিয়ে। বিয়ের পর শুধু আমার মাকে জানালাম। মা বলছিলো যে কাজটা আমরা খুব খারাপ করেছি। কিন্তু পরে চিন্তা করে বললো যে BBA শেষ হওয়া পর্যন্ত ওয়েট করতে। তারপর ওকে নিয়ে আসবে বাসায়।

মেয়েটি আমাদের বিয়ের আগে থেকেই আমার বাসায় আসতো। সে জন্য আমার বাসার সবার সাথে খুব ভাব ছিলো। সবাই ওকে খুব আদর করে। মেয়েটি আমাকে বলেছিলো যে ওর বাসাতে খুব চাপ দিচ্ছে বিয়ের জন্য সে জন্য সে বিয়েটা করে নিলো যেন অন্য কোথাও বিয়ে দিতে না পারে। আমি বিয়ের পর জানতে পারি ওর দৈহিক সম্পর্কের কথা। তারপর আপু ২ বছর কেটে গেলো। হঠাৎ করে ওর ব্রেস্ট টিউমার ধরা দিলো । ও ইন্ডিয়া গেলো এটার ট্রিটমেন্ট করার জন্য। ওর বাবা মার সাথে। ওখানে ওর চাচাত ভাইয়ের সাথে ১৫ দিনে প্রেম হয় ও সেক্স করে। আমি জানতাম না। ইন্ডিয়া থেকে আসার পর থেকে আমাকে শুধু ডিভোর্সের জন্য চাপ দেয়। পরে জানতে পারি যে এই কাহিনী।
আমার অনেক কষ্ট হয়। তারপরও ওকে ছাড়তে পারি নাই। ওকে অনেক বুঝানোর পর ও বুঝে এবং আমি ওকে মাফ করে দেই। আপু ও আমাকে অনেক ভালবাসত কিন্তু হঠাৎ করে আবার সব কেমন যেন হয়ে গেলো। এই বছরের এপ্রিল মাসে ওর মামাত ভাইয়ের সাথে আমি আর ও একসাথে দেখা করি। ওইখানে ও এবং ওর মামাতো ভাই একটা ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়। ছবিটা ফেসবুকে দেয়ার পর ওর মামাত ভাইয়ের একটা ফ্রেন্ড ওকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়। ও এক্সেপ্ট করে। ওখান থেকে শুরু হয় নতুন প্রেম। এই ছেলেটার সাথে প্রেম করা শুরু করে এবং ডিভোর্স চাওয়া শুরু করে। সারা রাত ধরে কথা বলে। সেমিস্টারে খারাপ করে। আমিও খারাপ করি। এগুলো থামাতে গিয়ে ওর বাসায় আমি সব বলে দেই। কিন্তু ও বাসায় ভুল বুঝিয়ে আমাকে সবার সামনে খারাপ বানায়। আমি ওর মামাত ভাইকে ফোন দেই যেন সে উনার ফ্রেন্ডকে মানা করে দেয় আমার ওয়াইফকে ফোন দিতে। কিন্তু ওর মামাত ভাই ওর সাথে এরপর ফোনে সারারাত ধরে কথা বলা শুরু করে। পরে দেখি উনি আমার বউয়ের সাথে প্রেম করা শুরু করে দিয়েছে। এখন আমার বউও আমাকে একেবারে দেখতে পারে না। ডিভোর্সের জন্য প্রেসার দিচ্ছে এবং নারী নির্যাতনের কেস করার হুমকি দিচ্ছে। ( ওর মামাত ভাইয়ের ১.৫ বছর আগে ডিভোর্সে হয়ে গেসে।)

ওর বাসায় সব বলা সত্ত্বেও ওরা আমাকে হেল্প করছে না। এখন আমাদের বিয়ের কথা ওর এবং আমার ফ্যামিলির সবাই জানে। ওর মামাত ভাইও জানে। এখন আমি কী করব আপু। আমি আমার বউ কে অনেক ভালোবাসি যার জন্য আমি ওকে ছাড়তেও পারছি না। আমি ওকে বাসায় নিয়ে আসতে চাই। এটা কি ঠিক হবে? আমাদের নিয়মিত দৈহিক সম্পর্ক হতো। কিন্তু সেটা লাস্ট এপ্রিল মাস পর্যন্ত। তাও ও কেন এমনটা করছে বুঝলাম না। ও আমার সাথে রাতেও ছিল আমার বাসায়। ও ঢাকায় একটা মেসে থেকে। যেটা আমার বাসা থেকে মাত্র ২ মিনিটের রাস্তা। আর ও সবসময় বলে কিনা যে আমি নাকি ওকে সময় দেই না। কিন্তু আপু আমি সারা দিনই ওর সাথে থাকতাম। তাও। আমি এখন কী করবো?
প্রশ্নটি আমাদের ফেসবুক পেজে করেছেন : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তরুণ

চাইলে আপনিও নিজের মনের যে কোন প্রশ্ন করতে পারেন আমাদের পেজের ইনবক্সে, সাথে লিখে দেবেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

জনৈক পাঠক উত্তরে লিখেছেন,
আসেন ভাই কপালে কপালে বাড়ি খাই। আগে জানতাম ছেলেরা এমন করে কিন্তু এই সমস্যায় পড়ে বুঝলাম পৃথিবীতে এমন অনেক মেয়েও আছে।
এত ভালোবাসা, এত ত্যাগ দেয়ার পরেও অন্যছেলের কাছে চলে গেলো। বিয়েও করেছি ওর চাপাচাপিতে…… বিয়ের আগেও অনেক রিলেশন এ ছিলো বিয়ের পর ও।।। আমি জানি ও অনেক খারাপ তারপর ও ভুলতে পারি না। আজ ৪মাস হতে চললো দিন রাত কান্না করে আর ঘুমহিন থাকি। বি বি এ পরিক্ষাটাও না পরে দিলাম।।।। এখন কাউকে বিশ্বাস ই করতে পারিনা। সবাইকে স্বার্থপর মনে হয়।
জানি না আল্লাহ কপালে কি রাখছে।। কতদিন আর এমন আবেগ এবং হতাশা নিয়ে বাচতে হবে তাও জানি না।।।
ধৈর্য ধরেন ভাই, আল্লাহ যাদের ভাল চাই তাদের একটু কষ্ট দেন।।
ভালো থাকিয়েন।

কাওসার বলেছেন,
বুঝিনা ছেলে মানুষ কিভাবে এত আবেগপ্রবণ হয়।
ভাই এইটা খবিস মাইয়া তারাতারি তালাক দিন।

আমাদের উত্তর :
আমি সবসময় মেয়েদের বকা দিই। আমার মনে হতো মেয়েরাই প্রেমে পড়ে আত্ম সম্মান হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এখন দেখছি যে ছেলেরাও এই কাজ করে! আপনি এই মেয়েকে কীভাবে ভালবাসতে পারছেন ভাই? কীভাবে? আমার তো মেয়েটার প্রতারনা চিন্তা করেও শরীরের মাঝে ঘিনঘিনে অনুভূতি হচ্ছে! আপনার সাথে এত জঘন্য সব কাজ করার পরও আপনি কীভাবে পারছেন মেয়েটির সাথে ভালোবাসার কথা বলতে?

দেখুন ভাই, আপু যখন ডেকেছেন তখন সোজা সাপটা কথাই বলবো। আপনার মাঝে যদি ন্যূনতম আত্ম সম্মান বোধও থাকে এবং নিজের পরিবারকে যদি একটুও ভালোবেসে থাকেন, আপনি অবিলম্বে মেয়েটিকে ডিভোর্স দিন আর ভুলেও তাঁকে নিজের বাসায় আনার কথা চিন্তা করবেন না। এই মেয়ে আপনার জীবন তো বটেই, আপনার মায়ের জীবনটাও শেষ করে দেবে। আপনি কি বুঝতে পারছেন না যে এই মেয়েটির কাছে শারীরিক সম্পর্ক করা নেশার মত? সে যে পুরুষকে কাছে পায়, তার সাথেই সম্পর্কে জড়ায় এবং সবই শারীরিক সম্পর্ক। এটা একটা ভয়াবহ চারিত্রিক সমস্যা।
তার বিয়ের আগে কী করেছে সেটা বাদ দিন। আপনাকে বিয়ে করার পর সে কতজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে সেই হিসাব করুন। বাকি জীবন এই মেয়ের সাথে থাকতে গেলে একবারও কি আপনার খারাপ লাগবে না। মনে হবে না যে কদিন আগেও এই মেয়েটি স্বেচ্ছায় আরেকজনের বিছানায় গিয়েছিল? সেই অনুভূতির সাথে বাঁচতে পারবেন? সবচাইতে বড় কথা, মেয়েটি আপনাকে ভালোবাসে না আর আপনার সাথে থাকতেও চায় না। এমন জঘন্য স্বভাবের একটা মেয়ের জন্য কেন এত উতলা হচ্ছেন আপনি ভাই? কেন?
নিজের ওপরে দয়া করুন। এই মেয়েটিকে ছেড়ে দিন। নিজের ক্যারিয়ার আর ভবিষ্যৎ বাঁচান। তাঁকে ধরে রাখতে গেলে আপনার জীবনে কষ্ট ছাড়া কিছুই আসবে না। এমন একটি মেয়ে আপনার স্ত্রী হবার যোগ্য নয়।

98594543509