গার্লস স্কুল গুলোর ব্যাপারে কার কেমন ধারনা, তা আমার জানা নেই। তবে, আমার জন্যে অসহ্য ছিলো। তার উপর স্কুলের গার্লস হোস্টেল। সাধারন স্কুলে পরলে, ছেলেদের নজরে পরে, বিপদ ঘটার সম্ভাবনা ছিলো বলেই, বাবা আমাকে কুমিল্লার একটি নামকরা গার্লস স্কুলেই ভর্তি করিয়েছিলো। ব্যবসার কাজে সারাদিন এখানে সেখানে ছুটাছুটি করতে হতো বলেই, স্কুল সংলগ্ন হোস্টেলেই আমার থাকার ব্যাবস্থাটা হয়েছিলো।

আসলে জলের মাছকে ডাঙায় তুলে নিলে, মাছটি যেমনি ছটফট করতে থাকে, কুমিল্লায় এসে প্রথমে ঠিক তেমনিই মনে হয়েছিলো। সবকিছুই কেমন যেনো যান্ত্রিক! সাগর পারে স্বাধীন মতো ছুটাছুটি করার মতো প্রশস্ত কোন এলাকা যেমনি ছিলো না, ঠিক তেমনি নিজ বাড়ীটার মতো খোলামেলা চলাফেরা করার মতো কোন পরিবেশও ছিলো না।

হোস্টেলে এক রুমে চারজন। আমার জন্যে যে রুমে থাকার ব্যাবস্থাটা হয়েছিলো, সেখানে অন্য তিনজন ছিলো, সিলভী, রাত্রি আর মাধুরী আপা।

মাধুরী আপা, চেহারাটা মধুর মতোই মাধুরী মাখানো। আমাদের ক্লাশেই পড়তো। একবার ফেল করেই আমাদের ক্লাশে রয়েছে বলে, সবাই মাধুরী আপা বলেই ডাকে! বয়সে বছর খানেকের বড় বলেই, বক্ষ যুগল তুলনা মূলক ভাবে উঁচু! চুল গুলো খাট করে ছেটে রাখে বলে, আরো বেশী সুন্দর দেখায়। শান্ত, খুবই সাধারন চেহারা, চোখ দুটি আয়তাকার উজ্জল! তবে ঠোট যুগল বুঝি অধিকতর নজর কাঁড়ে। কথাবার্তাও বন্ধু সুলভ! আমাকে অধিকতর স্নেহই করে, তবে খুব একটা আলাপ হয়ে উঠে না। হয়তোবা বয়সে খানিকটা বড় বলেই। তাছাড়া নুতন এসেছি বলে, সবার সাথেই খুব কম কথাবার্তাই হয়। তারপরও মাধুরী আপা আমার পছন্দের মেয়েদের মাঝেই পরে।

সিলভী! খুব সুন্দরী তাকে বলা যাবে না। শুকনো গোছের, গাল গুলোও খানিকটা চাপা, শুধুমাত্র ঠোট গুলোই খানিকটা ফোলা ফোলা। বক্ষ মোটামুটি, খানিকটা উঁচু হয়ে উঠেছে ঠিকই, তবে আর বেশী বাড়ার সম্ভাবনা আছে বলেও মনে হয়না। কি জানি, বাড়লেও বাড়তে পারে। তবে, ধনী অভিজাত পরিবার এর মেয়ে বলেই বোধ হয়, অনেকের নজর কাঁড়ার মতোই। তবে কথা একটু বেশী বলে।

স্কুলে অধিকাংশ সময় শরমিন এর সাথে গলপো গুজব চললেও, স্কুল শেষে হোস্টেলে সিলভীর সাথেই সময়টা বেশী কাটে। কথা আমাকে বলতে হয় না। হরবর করে সেই অনেক কথা বলে।

আসলে, পৃথিবীর সমমনা মানুষগুলোর মাঝে অনেক কিছুরই মিল থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনার মিল, কোন কোন ক্ষেত্রে পারিবারিক মিল। সিলভীর সাথে আলাপ করে যা বুঝতে পারলাম, সেও আসলে আমার মতোই নিঃসংগ! রোড এক্সিডেন্টে মা বাবা মারা যাবার পর, মামার সংসারেই বড় হয়েছে। মামীর যন্ত্রণা থেকে বাঁচানোর জন্যেই তার মামা তাকে কৌশলে হোস্টেলে রেখে পড়ালেখাটা চালিয়ে নেবার জন্যে সহযোগীতা করছে।

মানুষের জীবনে অনেক দুঃখ কষ্টই থাকে। চেহারা দেখে অনেকেরই দুঃখ কষ্টের কথা বুঝা যায় না। সদালাপী সিলভীর চেহারা দেখেও বুঝা যায়না, যদি সে হরবর করে সব কিছু না বলে। সিলভীও আমার পছন্দেরই একটি মেয়ে। সূদুর সাগর পার থেকে ঢাকায় এসে নিঃসংগতার যে ব্যাপারগুলো আমাকে কুঁকরে কুঁকরে খেতে চলেছিলো, সিলভী অনেকটা দূর করার জন্যেই সহায়তা করছিলো। এমন একটি মেয়ের সাথে বোধ হয়, ভালো বন্ধুত্বই হয়। আমারও তেমনি একটা সখ্যতা গড়ে উঠেছিলো, নিজেরই অজান্তে।

রাত্রি! যার কথা বোধ হয় এক কথায় বলে শেষ করা যাবে না। ধরতে গেলে আমার সাক্ষাৎ কোন প্রতিদ্বন্ধী! শৈশব থেকে আমাকেও সবাই সেক্সী সেক্সী বলে ভূষিত করতো। রাত্রিও কম সেক্সী নয়। রাত্রির বর্ননা দিতে হলে, কিভাবে শুরু করা যায়, তা নিয়ে আমিও মাঝে মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পরি।

মানুষের চোখই বুঝি সবার প্রথমে নজর কাঁড়ে। আমার চোখও ঠিক তেমনি চঞ্চল! রাত্রির চোখ দুটি যেনো আরো বেশী চঞ্চল। তারপরই বোধ হয় ঠোট! আমার ঠোট সরু এবং চৌকু! রাত্রির ঠোট যুগলও সরু, তবে আমার চাইতে নীচের ঠোটটা ঈষৎ ফোলা! ঠিক তেমনি ঈষৎ ছড়ানো, তবে চৌকুই বলা যাবে। তার চাইতে বড় কথা, রাত্রির বক্ষ দুটি, আমার চাইতে তুলনামূলকভাবে অনেক বড়! মাধুরী আপার বক্ষ যুগলের চাইতে হয়তো খানিকটা ছোটই হবে, তবে খুব সহজেই চোখে পরে। সেই কারনেই বোধ হয় প্রথম প্রথম রাত্রির প্রতি আমার খানিকটা ঈর্ষার ভাব উদ্ভব হয়ে ছিলো। তবে, রাত্রি সাংঘাতিক ধরনের চঞ্চল মেয়ে, এবং মেধাবীও বটে। তার উশৃংখল চিন্তাভাবনার জন্যে হয়তো, ক্লাশে মেধানুসারে প্রথম কয়েকজনের মাঝে থাকে না। তবে, লিডারশীপ কিংবা আড্ডা জমিয়ে রাখার জন্যে মধ্যমণিই বলা চলে।

রাত্রির বাবাও একজন রাজনৈতিক নেতা। মা নেই। দীর্ঘদিন রোগে আক্রান্ত থেকে রাত্রির শৈশবেই পৃথিবী ত্যাগ করেছে। যার কারনে, রাত্রিকেও গার্লস স্কুল আর হোস্টেল জীবনটা বেছে নিতে হয়েছে খুব ছোট কাল থেকেই।

রাত্রির প্রতি আমার ঈর্ষার কিছু ভাব থাকলেও, তার সদালাপ আর, লিডীংশীপের কল্যাণে, ভালো বন্ধুত্বই গড়ে উঠতে থাকলো।
রুম মেইট হিসেবে, মাধুরী আপা, সিলভী, আর রাত্রির সাথে একটা সদ্ভাব গড়ে উঠলেও, আমি কখনো যেচে পরে তাদের সাথে আলাপ করার

78454545