কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর ডিএনএ প্রতিবেদন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল এই ঘটনায় দায়ের মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। আর ডিএনএ পরীক্ষায় এই অপকর্মে ৩ ব্যক্তির বীর্য পাওয়া গেছে।

সোমবার রাতে কুমিল্লা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খাঁন ডিএনএ প্রতিবেদনে থাকা এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, সোহাগী জাহান তনুর প্যান্টি, কাপড়, শরীরের অংশবিশেষ, ভেজাইন্যাল সোয়াব ও রক্তের ডিএনএ প্রতিবেদনে ৩ ব্যক্তির বীর্য পাওয়া গেছে। প্যান্টিতে থাকা রক্ত তনুর বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নাজমুল করিম খাঁন বলেন, তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এবং মামলার তদন্তের স্বার্থে মেডিকেল বোর্ডকে ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহের জন্য সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যত দ্রুত দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে, ততই এ মামলার অগ্রগতি দেশবাসীকে দেখানো যাবে বলেও আশা করছি।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজ এলাকার পাশের একটি জঙ্গলে সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন মামলা করে। মামলাটি পুলিশ, ডিবির পর বর্তমানে তদন্ত করছে সিআইডি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মার্চ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য তনুর লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

৩০ মার্চ তনুর লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর ৪ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে দেয়া প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তনুর কাপড়, দাঁত, নখের ডিএনএ ও ফিঙ্গার প্রিন্টের প্রতিবেদন চেয়ে সিআইডির কাছে চিঠি দেয়।
কিন্তু ওই প্রতিবেদন সরবরাহে সিআইডি অপারগতা প্রকাশ করে আসছিল। সর্বশেষ গত রোববার ডিএনএ প্রতিবেদন চেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমের কাছে চিঠি দেন লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সভাপতি ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা ওরফে কেপি সাহা।
ওই চিঠিটি অবগতির জন্য কুমিল্লার ১ নং আমলী আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকটও প্রেরণ করা হয়।
এতে সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য পুনরায় কবর থেকে লাশ উত্তোলনের পর তদন্ত সংস্থা সিআইডি কর্তৃক সংগৃহীত নমুনার ৪টি দাঁত, ৪টি ভেজাইন্যাল সোয়াব, ডিএনএ অ্যানালাইসিস ও পরীক্ষার প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
তবে সিআইডি কর্তৃক সংগৃহীত ডিএনএ প্রতিবেদন চেয়ে আদালতে চিঠির অনুলিপি দেয়া হলেও তা আমলে নেয়নি আদালত।
এ বিষয়ে সদর কোর্টের জিআরও বাদল রায় সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট ডিএনএ প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি প্রেরণ করেছেন, আর আদালতকে ওই চিঠির অনুলিপি দিয়েছেন। আদালতের কাছে কোনো কিছু চাওয়ার একমাত্র এখতিয়ার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার, চিকিৎসকের নয়।
এছাড়া দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের ৪৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।
ওই বোর্ডের সভাপতি ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, আমরা ডিএনএ প্রতিবেদন চেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ৩ সদস্যের সমন্বয়ে প্রস্তুত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দিতে পারব বলে আশা করছি।

tanu_